ব্লগ কাকে বলে ?
নিজের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু ঘটনা অথবা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লেখা বা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ধারাবাহিকভাবে লেখার মাধ্যমে ইন্টারনেটে সবার সাথে শেয়ার করাকে ব্লগিং বলে। যেসব ওয়েবসাইটে ব্লগিং করা হয় সেসব ওয়েবসাইটকে ব্লগ বলে। এই ব্লগিং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হতে পারে যেমন আপনার জীবন নিয়ে, সাহিত্য, রাজনীতি, ইন্টারনেট ইত্যাদি।

ব্লগ কত প্রকার ও কী কী ?
সাধারণত ব্লগিংয়ের কোন প্রকারভেদ নেই। কিন্তু ব্লগিং করার উদ্দেশ্যকে বিবেচনা করে আমরা ব্লগিংকে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। যথা :
- ব্যক্তিগত বা অলাভজনক ব্লগ এবং
- নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বা লাভজনক ব্লগ।
ব্যক্তিগত বা অলাভজনক ব্লগ : ব্যক্তিগত বা অলাভজনক ব্লগ বলতে আমরা সেসব ব্লগকে বুঝি যেসব ব্লগে শুধুমাত্র আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু ঘটনা লিপিবদ্ধ থাকে অথবা যার মাধ্যমে আমরা কোনো আয় করতে পারি না।
নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বা লাভজনক ব্লগ : যেসব ব্লগ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে অথবা যার মাধ্যমে আমরা আয় করতে পারি সেসব ব্লগকে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বা লাভজনক ব্লগ বলে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম : যোগাযোগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটা সময় কবুতর কিংবা হাতের লেখা চিঠির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সময়ের পথ-পরিক্রমায় বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে মানুষ সহজতর মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে। এই যোগাযোগের এমনই একটি মাধ্যম হচ্ছে Social Networking site বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এটি ব্যবহার করে উন্নত দেশগুলো তাদের যোগাযোগকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর করে ফেলেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশও পিছিয়ে নেই। নিম্নে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ফেসবুক : ফেসবুক (Facebook) বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট। ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুকই বৃহত্তম। এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন মার্ক জাকারবার্গ। তার হাত ধরেই ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুক যাত্রা শুরু করেছিল। এটি ব্যবহারকারীগণ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান-প্রদান করতে পারেন। সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চলভিত্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন।
টুইটার : বর্তমান বিশ্বে যতগুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে টুইটার (Twitter) অন্যতম। টুইটার সামাজিক আন্তঃযোগাযোগের ব্যবস্থা এবং মাইক্রোব্লগিংয়ের একটি ওয়েবসাইট, যেখানে ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১৪০ শব্দের বার্তা আদান-প্রদান ও প্রকাশ করতে পারেন। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে টুইটারের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, হলিউড, বলিউড থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ টুইটার ব্যবহার করে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সুবিধা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। যেমন-
– সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ভৌগোলিক দূরত্বের বাধাকে অতিক্রম করে মানুষকে খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
– যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে পুরনো বন্ধু খোঁজা, নতুন বন্ধু তৈরি করা ছাড়াও নিজের বৃত্তের বাইরে অন্যকেও আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব।
– এই মাধ্যমগুলোতে খুব সহজে বিভিন্ন সংবাদ ও তথ্য পাওয়া যায় ।
– এর সদস্য হতে খুব একটা খরচ লাগে না। একইভাবে কম শিক্ষিতরাও সহজে ব্যবহার করতে পারে।
– সামাজিক মাধ্যমগুলো বিভিন্ন ভাষা সমর্থন করে। পাশাপাশি এগুলোর ব্যবহারিক শব্দও মোটামুটি সহজ।
– স্বাধীন মত প্রকাশ এবং ভালো লেখক সৃষ্টিতে সামাজিক মাধ্যমগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অসুবিধা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন-
– সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অপব্যবহারে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিপর্যয় ঘটছে।
– এই মাধ্যমগুলো সহজে ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা তাদের সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে।
– শিশুদের সুস্থ বিকাশের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যম। সেই সাথে তাদের শরীরের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। যেমন- আর্থরাইটিস, স্থুলতা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল, ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
– সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষ তাদের জীবনের নানা দিক তুলে ধরছে। ফলে সুবিধাবাদী দেশগুলো গোয়েন্দা ও নিরাপত্তায় এই মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে।