প্রথম অধ্যায় পাঠ-১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা(উপাত্ত,তথ্য,ক্যারেক্টার,স্ট্রিং,অবজেক্ট)

Chapter-1 H.S.C ICT

ডেটা কি?

Data শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Datum-এর বহুবচন। Datum অর্থ হচ্ছে তথ্যের উপাদান। তথ্যের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্রতর অংশসমূহ হচ্ছে ডেটা বা উপাত্ত। প্রক্রিয়াকরণ করে তথ্যে পরিণত করার জন্য কম্পিউটারে ডেটা বা উপাত্তসমূহকে ইনপুট বা সরবরাহ করা হয়। কম্পিউটার মূলত ডেটাকে প্রক্রিয়া বা প্রসেস করে তথ্যে রূপান্তরিত করে।ডেটা বিভিন্ন ভাষার প্রতীক, যেমন- অ, ক, A, B, f, ১, ৩ ইত্যাদি অথবা কোন ছবি বা অন্য যেকোন কিছু হতে পারে। এ প্রতীকগুলোকে কম্পিউটারে বোঝার উপযোগী করার জন্য কম্পিউটারের ভাষায় বা মেশিন কোডে রূপান্তরের ব্যবস্থা থাকে।

  • ডেটা হলো তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক। অর্থাৎ ডেটা একটি একক ধারণা।
  • সব উপাত্ত তথ্য নয়।
  • এটি সব সময় অর্থপূর্ণ নয়।
  • সরাসরি ব্যবহার করা যায় না।
  • উপাত্তকে প্রক্রিয়াকরণ করতে হয়।
  • ডেটা তথ্যের কাচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
  • ডেটা সজ্জিত অবস্থায় থাকে না।
  • ডেটা থেকে কোনো বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা লাভ করা যায় না।
  • ডেটা ইনপুট স্বরূপ।

ডেটা বা উপাত্তের প্রকারভেদ-

ডেটা প্রধানত তিন প্রকার, যথাঃ

১. নিউমেরিক ডেটা (Numeric Data)

২. বুলিয়ান ডেটা (Boolean Data)

৩. নন-নিউমেরিক ডেটা (Non-Numeric Data)

নিউমেরিক ডেটা (Numeric Data)

নিউমেরিক অর্থ হচ্ছে অঙ্ক। অঙ্ক দিয়ে তৈরি হয় সংখ্যা। যে সকল ডেটা দ্বারা কোন পরিমাণ বা সংখ্যা বোঝানো হয় তাই নিউমেরিক ডেটা। পরিমাণ দুই রকম হতে পারে। যথা, পূর্ণ এবং ভগ্নাংশ। তাই নিউমেরিক ডেটাও দুই প্রকার।

১. পূর্ণ নিউমেরিক ডেটা ও

২. ভগ্নাংশ নিউমেরিক ডেটা

এদেরকে যথাক্রমে ইন্টিজার (Integer) ও ফ্লোটিং পয়েন্ট (Floating Point) বলা হয়। ইন্টিজার আবার অনেক রকমের হয়ে থাকে। যেমন- বাইট (Byte), লং (Long), সাইন (Sign), আন-সাইন (Unsign) ইত্যাদি। একইভাবে ফ্লোটিং পয়েন্টও একাধিক রকমের হয়ে থাকে। যেমন- ফ্লোট (Float), ডাবল (Double) ইত্যাদি। এসবই নির্ভর করে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার গঠনের উপর।

বুলিয়ান ডেটা (Boolean Data)

বুলিয়ান ডেটার দুইটি রূপ থাকে। যথা- সত্য এবং মিথ্যা (True or False)। সাধারণত কোন নির্দিষ্ট অবস্থার সত্য বা মিথ্যা অবস্থা (Condition) বোঝাবার জন্য বুলিয়ান ডেটা ব্যবহার করা হয়।

নন-নিউমেরিক ডেটা (Non-numeric Data)

বুলিয়ান ডেটা ও নিউমেরিক ডেটা ব্যতীত অন্য যেসব ডেটা আছে। তাদের অ-নিউমেরিক ডেটা বলে। যেমন, কোন কিছুর ইমেজ (Image), শব্দ (Audio), অক্ষর (Character), বাক্য (Sentence), কোন কিছুর নাম ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে পারে।

অ-নিউমেরিক ডেটাগুলোকে আবার প্রধান তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথাঃ

১. ক্যারেক্টার (Character)

২. স্ট্রিং (String)

৩. অবজেক্ট (Object)

ক্যারেক্টার (Character)

যেকোন অক্ষর, প্রতীক বা চিহ্ন ক্যারেক্টার টাইপের ডেটার উদাহরণ। যেমন A, ক, খ, b ইত্যাদি বিভিন্ন ক্যারেক্টার টাইপের ডেটার উদাহরণ।

স্ট্রিং (String)

স্ট্রিং এর ধারণা একটু ব্যাপক। একাধিক ক্যারেক্টারের সমন্বয়ে স্ট্রিং গঠিত হতে পারে। যেমন, Book একটি স্ট্রিং। আবার অণু, কিরণ, সৈয়দপুর নামগুলােও এক একটি স্ট্রিং।

অবজেক্ট (Object)

আক্ষরিক অর্থে অবজেক্ট মানে হচ্ছে বস্তু। তবে অবজেক্ট ডেটা টাইপটি সামষ্টিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে অবজেক্ট হতে পারে অনেক কিছু। যেমন, একটি ভিডিও, অডিও, ছবি বা গ্রাফিক্স ফাইল। আবার কোন ইনফরমেশন সিস্টেমের একটি সামগ্রিক পদ্ধতিও অবজেক্ট হতে পারে। আধুনিক ইনফরমেশন সিস্টেমে অবজেক্ট একটি গুরত্বপূর্ণ ডেটা টাইপ।

ইনফরমেশন

সরবরাহকৃত ডেটা থেকে প্রক্রিয়াকরণের পর নির্দিষ্ট চাহিদার প্রেক্ষিতে সুশৃংখল যে ফলাফল পাওয়া যায় তাকেই বলা হয় তথ্য বা ইনফরমেশন। তথ্য বিভিন্ন ধরনের হতে পারে

যেমন নম্বরভিত্তিক ফলাফল, ব্যবসায়িক রিপার্টে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল ইত্যাদি। ডেটা একটি একক ধারণা এবং তথ্য সমন্বিত ধারণা।

এক বা একাধিক ডেটা প্রক্রিয়াকরণের পর যে অর্থপূর্ণ ফলাফল পাওয়া যায় তাকে তথ্য বলে। অর্থাৎ তথ্য একটি সমন্বিত ধারণা।

  • সব তথ্য উপাত্ত হতে পারে।
  • এটি সব সময় অর্থপূর্ণ।
  • সরাসরি ব্যবহার করা যায় ।
  • সাধারনত প্রক্রিয়াকরণ করতে হয় না।
  • কাঁচামাল (ডেটা) প্রক্রিয়াকরণের পর তথ্যে রূপান্তরিত হয়।
  • তথ্য সজ্জিত অবস্থায় থাকে।
  • তথ্য থেকে কোন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা লাভ করা যায়।
  • তথ্য আউটপুট স্বরূপ।

উপাত্ত  তথ্যের উদাহরণঃ 

কোন ছাত্রের প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর হল ডেটা বা উপাত্ত। কিন্তু সকল বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর হিসাব করে তৈরি করা ফলাফল অর্থাৎ GPA বা রিপোর্ট হলো ঐ ছাত্রের জন্য তথ্য। আবার কলেজ কর্তৃপক্ষ যখন সকল শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে একটি রিপোর্ট  তৈরি করবে তখন প্রতিটি ছাত্রের রিপোর্ট উপাত্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ একটি সিস্টেমের তথ্য অন্য একটি সিস্টেমের উপাত্ত হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

উপাত্ত ও তথ্যের মধ্যে সম্পর্কঃ উপাত্ত প্রক্রিয়া করার পর তথ্য পাওয়া যায়।

উপাত্ত তথ্যের মধ্যে পার্থক্যঃ 

উপাত্ত(ডেটা)তথ্য(ইনফরমেশন)
সুনির্দিষ্ট ফলাফল বা আউটপুট পাওয়ার জন্য প্রসেসিংয়ে ব্যবহৃত কাঁচামাল সমুহকে  উপাত্ত বলে।তথ্য হল কোন প্রেক্ষিতে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ডেটা যা অর্থবহ এবং ব্যবহারযোগ্য।
তথ্যের ক্ষুদ্রতম একককে বলা হয় উপাত্ত।ডেটাকে প্রসেস করে তথ্য পাওয়া যায়।
উপাত্ত কোন বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ  ধারণা প্রকাশ করে না।তথ্য কোন বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা প্রকাশ করে।
উপাত্ত তথ্যের উপর নির্ভর করে না।তথ্য উপাত্তের উপর নির্ভর করে।
উপাত্ত তথ্য তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।তথ্য সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে  ব্যবহৃত হয়।

2 thoughts on “প্রথম অধ্যায় পাঠ-১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা(উপাত্ত,তথ্য,ক্যারেক্টার,স্ট্রিং,অবজেক্ট)

  1. স্টুডেন্টদের অনেক হেল্প হবে আশা করি এই তথ্যগুলো। খুব গুছানো লেখা 😊

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *